হজ বা উমরাহ পালনের নিয়ত করার মাধ্যমেই মূলত পবিত্র এই ইবাদতের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। নিচে ইহরাম বাঁধার নিয়ম, তালবিয়া এবং হজ্জ ও ওমরাহর বিভিন্ন প্রকারের নিয়ত বিস্তারিতভাবে দেওয়া হলো।
১. ইহরাম বাঁধার নিয়ম
- শরীর পবিত্র করা: প্রথমে শরীর ভালোমতো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে ইহরামের উদ্দেশ্যে গোসল করে নিন।
- পোশাক:
- পুরুষগণ: সেলাইবিহীন সাদা রঙের দুটি কাপড় পরিধান করবেন—একটি লুঙ্গি হিসেবে এবং অন্যটি চাদরের মতো গায়ে জড়িয়ে উভয় কাঁধ ঢাকা রাখবেন। পায়ে ২ ফিতার স্যান্ডেল পরবেন এবং মাথায় টুপি পরে নেবেন (নিয়ত করার পর টুপি খুলে ফেলতে হবে)।
- মহিলাগণ: স্বাভাবিক সেলোয়ার-কামিজ ও হিজাব/নেকাব পরবেন।
- ইহরামের সুন্নাত নামাজ: ইহরাম বাঁধার আগে মাথায় টুপি পরিহিত অবস্থায় দুই রাকাআত নফল/সুন্নাত নামাজ আদায় করবেন।
- নিয়ত: “হে আল্লাহ! আমি ইহরামের দুই রাকাআত সুন্নাত নামাজ আদায়ের নিয়ত করছি।”
- পড়ার নিয়ম: ১ম রাকাআতে সূরা ফাতিহার সাথে ‘সূরা কাফিরুন’ এবং ২য় রাকাআতে সূরা ফাতিহার সাথে ‘সূরা ইখলাছ’ পড়বেন।
২. ওমরাহ বা হজ্জের নিয়ত ও তালবিয়া
নামাজ শেষ করে সালাম ফিরিয়ে সাথে সাথে টুপি খুলে ফেলবেন এবং ওমরাহ বা হজ্জের নিয়ত করে তালবিয়া পাঠ করে ইহরাম বাঁধবেন।
ক. হজ্জে তামাত্তু বা ওমরার নিয়ত
اَللّٰهُمَّ اِنِّىْ اُرِيْدُ الْعُمْرَةَ فَيًسِّرْهَا لِيْ وَتَقَبَّلْهَا مِنِّيْ
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নী উরীদুল উমরাতা ফাইয়াসসিরহা লি ওয়া তাকাব্বালহা মিন্নী।
অর্থ: “হে আল্লাহ! আমি ওমরাহর নিয়ত করতেছি। তুমি উহা আমার জন্য সহজ করে দাও এবং কবুল করে নাও।”
এই নিয়ত পড়ার পরপরই পুরুষগণ উচ্চস্বরে এবং মহিলাগণ নিচু স্বরে তিনবার তালবিয়া পাঠ করবেন:
لَبَّيْكَ اللّٰهُمَّ لَبَّيْكْ، لَبَّيْكَ لاَ شَرِيْكَ لَكَ لَبَّيْكَ، اِنَّ الْحَمْدَ وَالنِّعْمَةَ لَكَ وَالْمُلْكَ، لاَ شَرِيْكَ لَكَ
উচ্চারণ: লাব্বাইকা আল্লাহুম্মা লাব্বাইক্, লাব্বাইকা লা-শারীকা লাকা লাব্বাইক্, ইন্নাল-হামদা ওয়ান-নি‘মাতা লাকা ওয়াল মুলক, লা-শারীকা লাক্।
অর্থ: আমি হাজির, হে আল্লাহ! আমি হাজির, আমি হাজির, কোন শরীক নাই তোমার, আমি হাজির। নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা ও নিয়ামত তোমারই, আর সকল সাম্রাজ্য তোমারই, কোন শরীক নাই তোমার।
খ. হজ্জের বিভিন্ন প্রকারের নিয়ত
হজ্জে তামাত্তু পালনকারীর হজ্জের নিয়ত (৮ জিলহজ মিনায় যাওয়ার সময়):
اَللّٰهُمَّ اِنِّىْ اُرِيْدُ الْحَجَّ فَيَسِّرْهُ لِيْ وَتَقَبَّلْهُ مِنِّيْ
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নী উরীদুল হাজ্জা ফাইয়াসসিরহুলী ওয়া তাকাব্বালহু মিন্নী।
অর্থ: “হে আল্লাহ! আমি হজ্জের নিয়ত করতেছি। তুমি উহা আমার জন্য সহজ করে দাও এবং কবুল করে নাও।”
হজ্জে এফরাদ বা ওমরা ব্যতীত কেবল হজ্জের নিয়ত:
اَللّٰهُمَّ اِنِّىْ اُرِيْدُ الْحَجَّ فَيًسِّرْهُ لِيْ وَتَقَبَّلْهُ مِنِّيْ
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নী উরীদুল হাজ্জা ফাইয়াসসিরহুলী ওয়া তাকাব্বালহু মিন্নী।অর্থ: “হে আল্লাহ! আমি নিশ্চয় হজ্জের আকাঙ্ক্ষা করি, তুমি উহা আমার জন্য সহজ কর ও আমার পক্ষ থেকে কবুল কর।”
হজ্জে ক্বিরানের নিয়ত (একসাথে হজ্জ ও ওমরাহ):
اَللّٰهُمَّ اِنِّىْ اُرِيْدُ الْعُمْرَةَ وَالْحَجَّ فَيَسِّرْهُمَا لِيْ وَتَقَبَّلْهُمَا مِنِّيْ
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নী উরীদুল উমরাতা ওয়াল হাজ্জা ফাইয়াসসিরহুমা লী ওয়াতাকাব্বালহুমা মিন্নি।
অর্থ: “হে আল্লাহ! আমি নিশ্চয় ওমরা ও হজ্জের আকাঙ্ক্ষা করি, তুমি উভয়টাকে আমার জন্য সহজ কর ও আমার পক্ষ থেকে কবুল কর।”
৩. হজ্জ ও ওমরাহর সংক্ষিপ্ত নিয়ত
বড় নিয়ত মুখস্থ রাখতে সমস্যা হলে নিচের সংক্ষিপ্ত নিয়তগুলো করা যাবে:
ওমরাহর সংক্ষিপ্ত নিয়ত
اَللّٰهُمَّ لَبَّيْكَ بِالْعُمْرَةِ
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা লাব্বাইকা বিল উ‘মরাতি
অর্থ: হে আল্লাহ আমি ওমরাহর জন্য তোমার দরবারে হাজির।
হজ্জে তামাত্তু ও এফরাদের সংক্ষিপ্ত নিয়ত
اَللّٰهُمَّ لَبَّيْكَ بِالْحَجِّ
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা লাব্বাইকা বিল হাজ্জি
অর্থ: হে আল্লাহ আমি হজ্জের জন্য তোমার দরবারে হাজির।
হজ্জে ক্বিরানের সংক্ষিপ্ত নিয়ত
اَللّٰهُمَّ لَبَّيْكَ بِالْعُمْرَةِ وَالْحَجِّ
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা লাব্বাইকা বিল উ‘মরাতি ওয়াল হাজ্জি
অর্থ: হে আল্লাহ আমি হজ্জ ও ওমরাহর জন্য তোমার দরবারে হাজির।
৪. বদলি হজ্জের নিয়ত (হজ্জে বদল)
اَللّٰهُمَّ اِنِّىْ اُرِيْدُ الْحَجَّ مِنْ [নাম] بِنْ [পিতার নাম] فَيَسِّرْهُ لِيْ وَتَقَبَّلْهُ مِنْهُ وَ مِنَّا
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নি উরিদুল হাজ্জা মিন [অমুক] বিন [অমুক] ফাইয়াসসিরহুলী ওয়া তাকাব্বালহু মিনহু ওয়া মিন্না।
অর্থ: হে আল্লাহ! আমি অমুকের পুত্র অমুকের পক্ষ হতে বদলী হজ্জ করতে ইচ্ছা করি, বস্তুত এ কাজ আমার জন্য সহজ কর এবং তার ও আমাদের পক্ষ থেকে কবুল কর।